৫টি সহজ ধাপে আন্ডারআর্মসের যত্ন

সুন্দর একটা স্লিভলেস টপ কিংবা ব্লাউজ পরেছেন, কিন্তু বগলে কালো ছোপ, বা আন্ডারআর্মস থেকে আসা দুর্গন্ধ কিন্তু মোটেই ভালো কথা নয়।

এতে সামনের মানুষটির কাছে আপনার ইম্প্রেশন খুবই খারাপ হতে পারে।

কিন্তু তাই বলে কি ফ্যাশনেবেল স্লিভলেজ পোশাক পরবেন না?

অবশ্যই পরবেন, তার জন্য আগে থাকতেই আন্ডারআর্মসের যত্ন নেওয়াটা খুবই প্রয়োজনীয়।

কীভাবে সুন্দর আন্ডারআর্মস পাওয়া যেতে পারে, তার জন্য আপনাকে একটা রুটিন ফলো করতে হবে কীভাবে করবেন, দেখে নিন স্টেপ বাই স্টেপ।

প্রথম স্টেপ

আপনার অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট পরীক্ষা করুন- ঘাম নিয়ন্ত্রণ করতে অনেকেই অনেককিছু ব্যবহার করেন।

অনেকে পাউডার ব্যবহার করেন, অনেকে আবার রোল অনও ব্যবহার করেন।

সেক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে আপনার অ্যান্টিপারস্পিরেন্টটা পরীক্ষা করে দেখুন।

কারণ মনে রাখবেন অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট কিন্তু কেবল তার কাজটুকু করে অর্থাৎ আপনার ঘামকে নিয়ন্ত্রণ করে।

অধিকাংশ অ্যান্টিপারস্পিরেন্টে অ্যালুমিনিয়াম সল্ট থাকে, যা আপনার পোরসগুলিকে ব্লক করে এবং আপনাকে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে।

কিন্তু একইভাবে এই উপাদানটি আপনার ত্বকে জ্বালাভাবও সৃষ্টি করতে পারে।

আপনার ব্যবহৃত প্রোডাক্টে যত বেশি অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট থাকতে তত বেশি আপনার ত্বকের ওপর তা প্রভাব ফেলে।

পাশাপাশি অ্যান্টিপারস্পিরেন্টে অনেকসময় অ্যালকোহলও থাকে তা আপনার ত্বককে ড্রাই করে দিতে পারে।

দ্বিতীয় স্টেপ

ময়েশ্চারাইজ করুন- আন্ডারআর্মসের অতিরিক্ত ডিওডোরেন্ট, অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট-এর ব্যবহার, রেজার বার্ন-থেকে তৈরি হওয়া জ্বালাভাব কমানোতে একটি খুব সহজ উপায় হলো, আপনার ত্বককে হাইড্রেট রাখা।

নিয়মিত ত্বককে ময়েশ্চারাইজড করুন, এতে আপনার ত্বকের কোমলতা এবং নমনীয়তা বজায় থাকবে।

যখন আন্ডারআর্মসের যত্ন নেওয়ার কথা আসে তখনই শেভিংয়ের পরে এবং অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট অ্যাপ্লাই করার আগে ভাল করে লোশন লাগান।

তৃতীয় স্টেপ

এক্সফলিয়েশন করুন- অনেকেই হয়তো জানেন না যে, আপনার ত্বক প্রতি চার সপ্তাহ অন্তর নিজেকে নতুন করে গড়ে নেয়।

এর জন্য আমাদের বয়স বাড়ার তুলনায় ত্বকের বয়স তাড়াতাড়ি বাড়ে। আবার উল্টোটাও হতে পারে।

তবে আপনি যদি নিয়মিত ত্বকে এক্সফোলিয়েশন করেন, তাহলে এই ত্বকের বয়স বাড়ার পদ্ধতিটি ধীর গতিতে হয়।

এক্সফোলিয়েশন আপনার ত্বকের বাইরের স্তর থেকে পুরনো এবং মৃত কোষগুলি সরিয়ে দেয় যা এটিকে একটি নরম করে এবং ত্বকের বয়স ধরে রাখে।

এর জন্য আপনার মুখের পাশাপাশি আপনার আন্ডারআর্মসে এক্সফলিয়েশন করুন।

এছাড়াও এক্সফলিয়েশন করলে স্কিন ইরিটেশন, ত্বকের শুষ্কভাব ধীরে ধীরে দূর করতে সাহায্য করে।

চতুর্থ স্টেপ

ত্বকে কালো ছোপ থাকলে তা হালকা করার চেষ্টা করুন।

আপনি কি জানেন যে, অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট-এর ব্যবহার, টাইট পোশাক পরা বা আন্ডারআর্মস হেয়ার রিমুভ করার সময় আন্ডারআর্মসে নিজে থেকেই একটা কালো ছোপ পড়ে যেতে পারে।

একে হাইপারপিগমেন্টেশন বলা হয়ে থাকে। তবে এটা হরমোনের কম-বেশি বা সূর্যরশ্মির কারণেও হতে পারে।

এর জন্য স্কিন লাইটনিং ট্রিটমেন্ট করা যেতে পারে। এতে করে মাইল্ড হাইপারপিগমেন্টেশনের সমস্যা রোধ করা যেতে পারে।

তবে কোনও অ্যালার্জি বা চুলকানির সমস্যা হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পঞ্চম স্টেপ

শেভিং-এর বিকল্প উপায় খুঁজে বের করুন- আন্ডারআর্মস ক্লিন করার জন্য অনেক মহিলাই আন্ডারআর্মস শেভিং করে থাকেন।

কিন্তু শেভিং-এর পর অনেক সময় জ্বালা, চুলকানি বা লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়, যা এক থেকে তিনদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

এ থেকেও কিন্তু পরোক্ষাভাবে আপনার আন্ডারআর্মসের ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে। এর জন্য লেজার হেয়ার রিমুভ্যাল বা ওয়াক্সিং-এর পথও বেছে নিতে পারেন।

তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে হট ওয়্যাক্সিং বেদনাদায়ক হতে পারে এবং ওয়্যাক্সিং-এর পর আপনার ত্বকে লালচেভাব, ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

তবে ওয়্যাক্সিং-এর ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

একবার ওয়্যাক্সিং করিয়ে নিলে (আপনার হেয়ার গ্রোথ যদি কম হয়), আপনাকে প্রায় দেড় মাস মতো আর ওয়্যাক্সিং করাতে হবে না।

অন্যদিকে লেজার হেয়ার রিমুভাল ট্রিটমেন্ট আন্ডারআর্মসের চুলের ফলিকাল নষ্ট করে দিয়ে স্থায়ীভাবে হেয়ার রিমুভ করে দেয়।

যদিও পুরোপুরিভাবে এর ফলাফল পেতে ৮টি সেশন নিতে হতে পারে।

তবে আন্ডারআর্মসের ৯০ শতাংশ চুলই ৩টি থেকে ৫টি ট্রিটমেন্টের পর রিমুভ করে ফেলা সম্ভব।