Search
Close this search box.

ব্রণ দূর করুন সহজে

আমাদের ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি, সিবাম নামে এক প্রকার তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণ করে যা ত্বককে মসৃণ রাখে।

কোনো কারণে সেবাসিয়াস গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সিবাম নিঃসরণের বাধার সৃষ্টি হয় এবং তা ভেতরে জমে ফুলে উঠে যা ব্রণ (Acne) নামে পরিচিত। 

ব্রণের প্রকারভেদ 

১. বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে গেলে এবং প্রচন্ড গরমে শরীরের বিভিন্ন স্থানে (বিশেষ করে মুখে) যে ব্রণ দেখা যায়। তাকে ট্রপিক্যাল একনি বলা হয়।

২. বেটনোভেট, ডার্মোভেট, এই জাতীয় ঔষধ একাধারে দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ফলে মুখে কিছু ব্রণ দেখা যায় অথবা কিছু মেডিসিন আছে যেগুলো অতিরিক্ত সেবনের ফলেও মুখে ব্রণ দেখা যায়। একে স্টেরয়েড একনি বলা হয়।

৩. লাগাতার দীর্ঘদিন একই ধরণের প্রসাধনী ব্যবহার করার ফলে মুখে ব্রণ বা দানা দানা দেখা যায়। একে একনি কসমেটিকা বলা হয়।

৪. অনেক সময় মুখ অতিরিক্ত ভাবে সাবান দিয়ে ধুলেও ( দৈনিক ১/২ বারের বেশি ) ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়। একে বলা হয় একনি ডিটারজিনেকস। 

৫. মাসিকের ৫/৬ দিন আগে কিছু কিছু মেয়েদের মুখে ব্রণ দেখা যায়। যাকে প্রিমিন্সট্রুয়াল একনি বলা হয়।

ব্রণ কেনো হয়? 

ব্রণ হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। মেকআপ বা নিত্যদিনের দূষণে ত্বকের পোরসে ময়লা জমে যায়।

ফলে সিবাম থেকে অয়েল বের হতে পারে না, সেখানেই জমে ফুলে উঠে এবং ব্রণের সৃষ্টি করে।

এমনকি ব্রণের কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচেভাবও দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও হরমোনের পরিবর্তন, নিদ্রাহীনতা, ব্যাকটেরিয়া, যত্নের অভাব, না জেনেই ভুল প্রোডাক্ট ব্যবহার করা ইত্যাদি কারণেও ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়।

ব্রনের অনেকগূলো কারণের ভিতর বংশগত কিংবা জিনগত কারণ একটি অন্যতম কারণ।

যেমন বাবা, মা যে কারো কৈশরে ব্রণের সমস্যা থাকলে সন্তানেরও ব্রণ দেখা দিতে পারে। মানসিক চাপও ব্রণ হবার অন্যতম কারণ হতে পারে। 

ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়

কিছু নিয়ম অবলম্বন করলেই ব্রণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। অনেকের ধারণা, কোনো বিশেষ খাবার খেলেই ব্রণ হয়ে থাকে।

আসলে এটি ঠিক নয়। কোনো খাবার খেলে যদি ব্রণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে তবে সে খাবারটি বাদ দিতে হবে।

প্রচুর ফলমূল ও পানি খেতে হবে, পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে

তিসি, আখরোট, বাদামে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা প্রদাহ কমায় এবং বাড়তি সিবাম উৎপাদন কমায়।

লেবুর পানি, তাজা ফলের রস, আপেল, নাশপাতি, আনারস ইত্যাদি ব্রণ-এর ক্ষেত্রে ভালো উপকার করে থাকে।

পোরস পরিষ্কার রাখা এবং ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পাকা পেঁপে খুব ভালো কাজ করে।

এছাড়াও রাত জাগার অভ্যাস থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। ঘুমের পাশাপাশি মেডিটেশনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বেসিক স্কিন কেয়ার করতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

পিরিয়ডের সময় হরমোনাল একনি হয়ে থাকলে হতাশ হয়ে পড়বেন না। বেসিক স্কিন কেয়ার করা বন্ধ করবেন না। 

ব্রণ হলে কী করবেন? 

প্রথমত বেসিক স্কিন কেয়ার করতে হবে।

ডাবল ক্লিনজিং করতে হবে। দিনে এবং রাতে দুইবারের বেশি ফেইসওয়াশ ব্যবহার করবেন না৷ ব্রণে হাত লাগাবেন না৷

তেলযুক্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। ব্রণ খুঁটবেন না। চুলে এমনভাবে তেল দেবেন না যাতে মুখটাও তেলতেলে হয়ে যায়।

বালিশের কভার ৩-৪ দিন পর পর বিছানার চাদর দুই সপ্তাহে একবার ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন।

গোসল-এ ব্যবহারের তোয়ালে বা গামছা প্রতিদিন ধুয়ে ফেলবেন। মুখের জন্য আলাদা নরম সুতির রুমাল রাখবেন।

চুলের ময়লা বা তেল ব্রণ-এর জন্য খুবই খারাপ। তাই গোসল করার আগে চুলে এক বা আধা ঘণ্টার বেশি তেল না রাখাই ভালো।

নিয়মিত চুল ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে

স্কিন কেয়ার করার সময় চুল মুখের থেকে সরিয়ে পিছনে বেঁধে রাখবেন।

অবশ্যই হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন।

স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টগুলো কখনোই ওয়াশরুমে রাখবেন না৷ ব্রণ এর জন্য স্যালিসাইলিক ও গ্লাইকোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়াও ব্রণ এর প্রাথমিক সমাধান হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন একনি প্যাচ। একনি প্যাচ মূলত আমাদের ত্বকে ব্যান্ডেজ এর মতো কাজ করে।

কোনো ক্ষত হলে ব্যান্ডেজ যেমন ক্ষতটিকে বাইরের ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে এবং দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে, একনি প্যাচও আমাদের ত্বকে ঠিক সেভাবেই কাজ করে৷ 

সর্তকতা

বেশি মাত্রায় ব্রণ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কারণ চিকিৎসা না করালে অনেক সময় ব্রণ ত্বকের মারাত্বক ক্ষতি করতে পারে।

ত্বকে গভীর প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। তাই ব্রণ হলে একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।